বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাস্তুভিটা হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসন পল্লী যেন শিল্পীর তুলিতে আকা দৃষ্টিনন্দিত বাগান বাড়ী

দূর থেকে মনে হয় যেন পটে আঁকা ছবি। শিল্পীর তুলির আঁকিবুঁকিতে অসংখ্য সবুজ মিলেমিশে তৈরি করেছে সে ছবির বিশাল ক্যানভাস। এটি কলাপাড়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন পুনর্বাসন পল্লী। এখানে ঠাঁই পাচ্ছে বহু নিঃস্ব পরিবার।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যারা বাস্তুভিটা হারিয়েছে এ সবুজ পল্লী হতে যাচ্ছে তাদের নতুন ঠিকানা। ২০১৬ সাল থেকে এসব পরিবার অনেকটা উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করে আসছে। তাদের জন্য সরকার পল্লী নির্মাণ করেছে। আগামীকাল শনিবার পরিবারগুলোর হাতে নতুন ঠিকানা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা ঘিরে সাগর পাড়ের কলাপাড়ায় উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। রামনাবাদ নদীতীরে ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া মৌজায় এক হাজার একর জমির ওপর ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হলে প্রথম পর্যায়ে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকাও দেয়া হয়। তবে তাদের মধ্যে ১৩০টি পরিবারের ফসলি জমি ও ভিটেমাটি সবই অধিগ্রহণের কবলে পড়ে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকায় তাদের পক্ষে জমি কিনে নতুন বাড়িঘর করার মতো সামর্থ্য ছিল না। এ কারণে ২০১৬ সাল থেকে তারা অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিল। এ অসহায় পরিবারগুলোর কথা বিবেচনা করে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় সরকার।

কলাপাড়া পৌর কার্যালয় থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে আলাদা সীমানায় ১৬ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে পুনর্বাসন পল্লী। সেখানে একই ধরনের ১৩০টি সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের ছাউনি সবুজের রঙে রাঙানো হয়েছে।

এগুলো দুটি ডিজাইনে করা হয়েছে। যেসব পরিবারের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের জন্য ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে ১২০০ বর্গফুট আয়তনের ৮২টি এবং যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তাদের জন্য ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে ১০০০ বর্গফুট আয়তনের ৪৮টি বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এল টাইপের প্রতিটি বাড়িতে তিনটি বেড রুম, একটি ডাইনিং রুম, রান্নাঘর ও একটি বাথরুম রয়েছে।

লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা সামনের বারান্দায় রয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। এছাড়া প্রতিটি বাড়ির সামনে শাকসবজি চাষাবাদ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালনের জন্য বড় উঠান রাখা হয়েছে।

নান্দনিক ডিজাইনে নির্মিত এই পল্লীতে ৩৬ হাজার ৯২৯ এবং ২৪ হাজার ৫৫৪ বর্গফুট আয়তনের দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে।

পুকুরের উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে প্রশস্ত পাকা ঘাট। নিরাপদ পানির জন্য পল্লীতে ৪৮টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এছাড়া দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, কয়েকশ’ মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার, সেন্টারের নিচে স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্লিনিক ও একটি খেলার মাঠ রয়েছে। ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে সাতটি দোকান নিয়ে একটি শপিং সেন্টার করা হয়েছে।

থাকছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধাও। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎই পাবে পল্লীর বাসিন্দারা। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির অর্থ থেকে দশমিক তিন পয়সা ব্যয় হবে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে। কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের যথাযথভাবে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার সকাল ১০টায় কলাপাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় সুধী সমাবেশ করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুনর্বাসন কেন্দ্রের ঘরগুলো তিনি হস্তান্তর করবেন। এরপর বরগুনার তালতলী উপজেলায় এক জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কলাপাড়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চারদিকে চলছে সাজসাজ রব। ঝলমলে ব্যানার ফেস্টুন ও রঙবেরঙের পতাকায় সেজেছে পুরো এলাকা।তালতলীতে (বরগুনা) জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রীর তালতলী আগমন উপলক্ষে সর্বত্র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তালতলীতে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এছাড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বরগুনা সদরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও বরগুনা জেলা গ্রন্থাগারসহ ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তালতলীসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিনই আনন্দ মিছিল করছে আওয়ামী লীগ।







সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জামাল হোসেন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ মোনাজ্জেল হোসেন খান
নির্বাহী সম্পাদক : নাঈম ইসলাম
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৭কে,মেহেরবা প্লাজা ৩৩ তোপাখানা রোড,ঢাকা
ফোনঃ 01947171171
মেইলঃdailyagomoni2018@gmail.com
প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।