আজকের সরকারি ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীর ঢল,যানজটে নাকাল

ফেব্রুয়ারি ০৯ ২০২৪, ১৬:০২

Spread the love

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসরের ততীয় শুক্রবার, সরকারি ছুটির দিনে মানুষের ঢল নামে মেলায়। বেচাকেনাও ভাল। বিক্রের মুখে হাঁসি। নিত্য নতুন মান সম্মত পণ্য সামগ্রি পেয়ে ক্রেতারাও খুশি। তবে তীব্র যানজট নাকাল দর্শনার্থীরা। সরকারি ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তাদের পদচারণায় মেলার প্রায় সব স্টলই ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে মেলায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতাকে। বেচাকেনাও হয়েছে আগের দিনের তুলনায় ভালো। অনেক পণ্যে দেয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। ফলে বেড়েছে বেচাকেনা ও ক্রেতাদের উপস্থিতি।

”লাল নীল বাত্তি দেইখ্যা নয়ন ঝুড়াইছে, বাণিজ্য মেলায় আইস্যা আমার আসা পুরাইছে।” গ্রীন রোড থেকে আসা লাকী আক্তার কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মেলা অনেক মজার জায়গা এতদিন খালি মানুষের মুখে মুখে শুনছি, আজ দেখলাম সত্যিই। শ্যামপুর থেকে বাণিজ্য মেলায় স্বপরিবারে এসেছেন টিনা খানম। তিনি বলেন, প্রতি বছরই মেলায় আসি। কাজের ঝামেলায় এবার একটু দেরীতে আসলাম। মেলার ভিতরে আয়োজন ভাল হলেও রাস্তায় জ্যামে আটকে ছিলাম র্দীঘক্ষন। যানজটে অনেকেই মেলায় আসতে ভোগান্তি ফোয়াতে হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল দেখা গেছে। পূর্বাচল উপ শহরের চারিদিকে লাল, নীল, হলুদ বাতি দিয়ে নতুন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। মেলাতে আশা ক্রেতা, দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে বইছে আনন্দের হাওয়া। সবই ঠিক আছে, মাঝখানে বাদ সেধেছে ৩শ’ ফুট সড়গে র্দীঘ যানজট। এ নিয়ে ক্রেতা দর্শনার্থীদের অভিযোগের অন্ত নেই, ভোগান্তিরর শেষ নেই। এ নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতেই যেন নারাজ। লোকচক্ষুর সন্মূখে ঘটলেও এ যেন দেখার কেউ নেই।

এ আনন্দের মাঝে তীব্র যানজটের আরেক হতাশায় ভুগছে মেলাতে আসতে যাওয়া ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মাঝে। এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে নিত্যদিনের যানজটের কারণে মেলাতে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন নিজেদের মনগড়া মতো। এ কারণেই তীব্র যানজটের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ভুলতা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় জায়গায় জায়গায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কাঞ্চন ব্রিজ, মায়ারবাড়ী, চাঁন টেক্সটাইল, কালাদী, নলপাথর, পেনাবোসহ পুরো বাইপাস সড়কে যানবাহনের জটলা বেঁধে থাকছে। যানজটের কারণে চালকরা গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকছেন। এতে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

অতিরিক্ত যানবাহনের কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া সড়কটি দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে গাজীপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের মালবাহী অনেক ট্রাক চলাচল করছে। এসব ট্রাকের কারণেও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন রূপসী-কাঞ্চন সড়ককে বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতে বললেও তা কাজে আসছে না। অন্য দিকে চনপাড়া থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। যে কারণে ওই এলাকার মানুষও মেলায় আসতে যানজটের ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এ দিকে ট্রাফিক পুলিশের দাবি যানজট নিরসনে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক আরিফ হোসেন বলেন, ‘যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে যানজট দূর করতে সকলকে সচেতন হতে হবে।
মেলায় ঘুরতে আসা কুমিল্লার বাসিন্দা নীলা ইসলাম বলেন, এ বছর মেলায় প্রথমবারের মতো এলাম। স্থায়ী প্যাভিলিয়নে বিশাল পরিসরের আয়োজন ভালো লাগল। তবে মেলার ভেতরে পণ্যের দাম বেশি হাঁকা হচ্ছে। রামপুরা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মেলা ঘুরে দেখেছি। আমাদের মেলার আয়োজন আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে।

পুরিন্দা থেকে স্বপরিবারে মেলায় এসেছেন শায়লা বেগম। তিনি বলেন,্র বিআরটিসি বাসের টিকিট ও মেলায় খাবারের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়াও মেলা থেকে বহু দূরে নামিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন খিলক্ষেত থেকে আসা দর্শনার্থী জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন, বাস থেকে নেমে হেঁটে মেলায় আসতে হয়েছে। এরপর টিকিট কাটতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কিছুটা হয়রানি হতে হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব বিবেক সরকার বলেন, ছুটির দিনে লোক সমাগম বাড়ে। মেলায় প্রতিবছর ব্যবসায়ীরা ছাড় দিয়ে বেচাকেনা বাড়ান। তিনি আরো বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।####

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও