রথ দেখা ও হলো, কলা বেচা ও হলো

জুন ০৮ ২০২৪, ১৩:৫৪

Spread the love

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ সকাল সাড়ে ৯ টা। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকায় ব্রাইট শিশু কানন স্কুল। স্কুলের ভিতরে পরীক্ষা চলছে। বাহিরে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন পরীর্ক্ষীর মায়েরা। হাতে সুতা ও কুসি কাটা। কেউ টুপি বানাচ্ছেন। আবার কেউবা ছোবা। বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে এসে খোশ গল্প না করে হাতের কাজ করে নিচ্ছেন মায়েরা। এতে বাচ্চাদের দেখাশুনাও হল, অবসর সময়টুকু কিছু উর্পাজনও হল, খারাপ কিছু না তো। একেই বলে রথ দেখা ও কলা বেচা। এমনি দৃশ্য দেখা যায় ব্রাইট শিশু কানন স্কুলে প্রতিদিনই।

‘রথ দেখা আর কলা বেচা’- বাংলার অতি পুরণো একটি প্রবাদ। অর্থাৎ একটি কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে বাড়তি অন্য কোন কাজ করা। অথবা একের ভেতর দুইও বলা চলে একে।

সেই প্রবাদকেই আজ বাস্তবে রূপ দিলেন রূপগঞ্জের নারীরা। রাস্তাঘাটে গাড়ী যেভাবে চলে তাতে ঝুকি নিয়েই শির্ক্ষাথীরা স্কুলে আসে। তারপরও র্দুঘটনা ঘটেই। এছাড়া মাঝে মধ্যে শিশু অপহরনের খবর শুনেও অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন। তাই প্রতিদিন সকালে বাড়ির কাজ সেরে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসেন। আবার ছুটির পর বাসায় নিয়ে যান। আসা যাওয়ার মাঝখানের সময়টুকু কুটির শিল্পের কাজে ব্যায় করেন রূপগঞ্জের ব্রাইট শিশু কানন স্কুলের অভিভাবকরা।

এব্যাপারে ব্রাইট শিশু কানন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের স্কুল কর্তৃপক্ষ বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অহেতুক খোশগল্প না করে ছুটি হওয়া পর্যন্ত বসে বসে কুটির শিল্পের কাজ করেন। এতে তাদের সময়ও কেটে যায়। আবার বাড়তি কিছু আয়ও হয়। এমন নারীই প্রতিটি সংসারে দরকার। নারী শুধু রাধুনিই নয়, বর্তমান যুগের নারী এরাই। যে রাধে সে চুলও বাধে।

একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক অঞ্জনা দেবী বলেন, বসেই তো থাকি। তাই বাড়ি থেকে কিছু মহাজনের দেয়া সুতা আর কুসি কাটা নিয়ে বাচ্চার ছুটির আগ পর্যন্ত যতটুকু পারি ছোবা টুপি বানাই। এতে সময়ও চলে যায়। আবার কাজও হয়\ আরেকজন অভিভাবক রোকসানা বলেন, বাড়িতে থাকলে টিবি দেখতাম। স্কুলে বাচ্চাকে নিয়ে আসার পর একজনের পরামর্শে ও সহযোগিতায় মহাজনের কাছ থেকে সুতা নিয়ে ছোবা বানানো শুরু করি। ভালই লাগে। টাকাও পাই। সময় অসময় বাচ্চাদেও জন্য কিছু কিনতে পারি।
সাবিনা নামে আরেকজন শিক্ষার্থীর মা বলেন, বাচ্চাকে সাথে নিয়ে আসি। আবার নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যাই। ছুটির আগ পর্যন্ত বসে কিছু হাতের কাজ করি। সময় কেটে যায় টেরই পাই না।

এ ব্যাপারে ব্রাইট শিশু কানন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বলেন, অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। আবার ছুটির পর নিয়ে যান। ছুটির আগ পর্যন্ত অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অবসর সময়ে তার বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ করে। অযথা আজেবাজে খোশগল্প বা সিরিয়ালের আলাপ না করে হাতের কাজ করে, এটা ভালই লাগে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, এ বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে এটা খুবই ভাল কাজ। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাসেল সাহেবকে এ ব্যাপারে ধন্যবাদ জানাই। উপজেলার প্রতিটি সরকারি বেসরকারি স্কুলেই এ ব্যবস্থা করলে ভাল হত।#####

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও