চিরিরবন্দরে গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল,সৌন্দর্যে, সৌরভে ভরে উঠছে প্রকৃতি
এনামুল মবিন(সবুজ),জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুরঃ শীতের শেষে বসন্তের আগমনে চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল। ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আমগাছ ও বাগানজুড়ে দেখা মিলছে সোনালি-হলুদ রঙের মুকুলের। বসন্তের অন্যান্য ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশের পরিবেশ।
উপজেলার গ্রামের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ ও আবাসিক এলাকার আঙিনায়, বাড়ির ভিটেতে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস। গাছে গাছে মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর ছোট পাখির আনাগোনায় প্রকৃতিতে যোগ হয়েছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। প্রকৃতির এই রূপ স্থানীয়দের মন কাড়ছে, অনেকেই থেমে উপভোগ করছেন ঋতু পরিবর্তনের এই দৃশ্য।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসে, সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বর্তমানে বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে আমের ভালো রঙ, ফলন ও দাম পাওয়া যায়। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন বাড়বে।
পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রপ্তানি ও বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
চিরিরবন্দরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে।
আম বাগানের মালিকরা বলেন, এ বছর তুলনামূলক আগেই মুকুল এসেছে, বিগত বছর গুলোর তুলনায় এই বছর আম গাছে মুকুল এসেছে বেশি। যা ভালো ফলনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আলোকডিহি ইউপির সামাদুল মোল্লা বলেন, এ বছর বিগত বছরগুলোর তুলনায় আম গাছে মুকুল ধরেছে অনেক বেশি। যদি বড় ধরনের বন্যা না হয় তাহলে আমের বাপ্পার ফলন হবে।
ফতেজংপুর ইউপির গ্রামের ফজলুল হক শাহ্ বলেন, বসত ঘরের পিছনে একটি আম গাছের বাগান করেছিলাম। গাছ গুলো এখনো তেমন বড় হয়নি তবে এই বছর ছোট ছোট গাছেও আমের মুকুল ধরেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, আম গাছে মুকুল ধরার সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এ সময় পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, কোনভাবেই পানির ঘাটতি হওয়া যাবে না। মুকুল আসার পর সঠিক পরিচর্যা না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন ব্যাহত হতে পারে। তাই আমরা ফুল ফোটার পূর্বে একটি এবং আম মার্বেল আকৃতির হলে দ্বিতীয়বার স্প্রে করার (কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক) পরামর্শ দিয়ে থাকি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বছর আমের বাম্পার ফলন হবে।













