শায়েস্তাবাদ খেয়ায় ইজারাদারদের কাছে সহস্রাধিক যাত্রী জিম্মি,অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ ব্যাপক অনিয়ম

নভেম্বর ২৮ ২০১৮, ২২:৫৭

Spread the love

বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ খেয়া ঘাটে যাএী পারাপারের নামে জিম্মি করে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।ইউএনও কতৃক নির্ধারিত জনপ্রতি ভাড়া সাত টাকার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে দশ টাকা।মটর সাইকেল পারাপার বিশ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত।আর এদিকে শায়েস্তাবাদ খেয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে জনগনের পকেট থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এই খেয়া ঘাট পার হয়ে প্রতিদিন বরিশাল শহরের স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়,হাসপাতাল ও কর্মস্হলে যেতে হয়। কিন্তুু অতিরিক্ত ভাড়া ও নানা রকমের হয়রানির ফলে এই জনগোষ্ঠীকে প্রতি নিয়ত সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।এ ছাড়া সরকার নির্ধারীত অনুযায়ী ভাড়ার চার্ট টানানো কথা থাকলেও এখানে কোন ভাড়ার চার্ট টানানো নাই।বখাটে কিছু যুবকদের দিয়ে খেয়া চালানোর ফলে তাদের অস্মানজনক ব্যবহারের ও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী বরিশাল শহর বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র। এখান থেকে মুলাদী,মেহেনদিগঞ্জ,ভাসানচর বিভিন্ন এলাকার মানুষের একটি বড় অংশের লোকজন এই ঘাট দিয়া আসা যাওয়া করে।যতদিন যাচ্ছে,ততই দুর্ভোগের মাএা চরম আকার ধারন করছে।বিশ জন যাএী নিয়ে পারাপারের কথা থাকলেও চল্লিশ-পঞ্চাশ জনের বেশি লোক নিয়ে পারাপার করে ট্রলার চালকরা।যাতে করে অফিস মুখী যাএীদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।এদিকে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আরেক কূটকৌশল এদেরি নিয়িন্ত্রনের রিজার্ভ ব্যবস্থা।ইজারাদারদের ট্রলার ছাড়া তাদেরই অন্য লোক ট্রলার নিয়ে বসে থাকে।তারা রিজার্ভ প্রতিজন পনেরো থেকে বিশ টাকা করে পারাপার করে।তাতে করে অনেক দরিদ্র জনগনের ঘন্টার পর ঘন্টা খেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।আর অন্য লোকেরা ট্রলার দিয়ে যাএী পারাপার করলে ইজারাদারদের আয় ও প্রায় তিনগুণ।শায়েস্তবাদ ঘাট পার হতে আসা ইউসুফ ব্যাপারি জানান,এই নদী পার হয়ে বরিশাল শহরে যেতে হয়।আমি সপ্তায় দুই-তিন দিন বরিশাল শহরে আসা যাওয়া করি।আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায় শহর থেকে মালামাল নিয়ে আসতে অনেক ভাড়া পড়ে।এর পর এই খেয়া সরকার নির্ধারীত ভাড়া সাত টাকা কিন্তুু এরা দশ টাকা করে ভাড়া আদায় করে।তাতে আমার মত অনেক লোকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।এ প্রসংগে জানতে চাওয়া হলে ঘাটের ইজারাদার সুমন রাজ কিছু বলতে চাই না।ঘাটের অন্য একজন ইজারা মো:কালাম জানান, আমরা প্রতিদিন ছাএ শিক্ষক কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ তিনশত লোক ফ্রি পারাপার করি।এ ছাড়া ঘাটের উন্নয়ন মূলক কিছু কাজ আমরা করেছি, এতো কিছু মিলিয়ে সরকার নির্ধারীত ভাড়ায় আমাদের হয় না বিদায় সাত টাকার পরিবর্তে দশ টাকা নিতেছি।শায়েস্তবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জনাব আরিফুজ্জামান মুন্নাকে মুঠো ফোনে জানান,খেয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আমার কাছে আসে।আমি তাদের কে বলছি মৌখিক অভিযোগ না করে লিখিত অভিযোগ করতে ।কারন যখন ইজারাদারদের সামনা সামনি এ ব্যাপারে জিজ্ঞাস করা হলে,তখন তাদের অভিযোগ থাকে না। সরকারী নির্ধারীত ভাড়ার চার্ট টানানো ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান,চার্ট টানাতে আমি কয়েকবার বলছি কিন্তুু ইজারাদারা টানাবে টানাবে বলে আর টানায় না।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ুন কবির জানায়,অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে প্রথমে ইজারাদারদের সতর্কীকরণ করা হবে এরপর কথা না শুনলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও