সিলেটে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ ৫ সন্তানের জননীর
আগমনী ডেস্কঃ সিলেটে এবার শ্রমিক লীগ নেতা দিলাওয়ার অস্ত্রের মুখে স্বামীকে বেধে রেখে ধর্ষন করেছে ৫ সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে।
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রাবাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও বেড়ানোর কথা বলে বাসায় এনে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর এবার পাঁচ সন্তানের জননীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। আগের দুই ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। আর এবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেট নগরের শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার চার নম্বর রোডের দুই নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। একই বাসার দোতলায় ধর্ষণের শিকার নারী ও নিচতলায় অভিযুক্ত দিলাওয়ার হোসেন পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।
পাঁচ সন্তানের জননী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের ২নং বাসার দুইতলার ভাড়াটে দিলাওয়ার হোসেন (৩৮) ও তার সহযোগী হারুন মিয়া ওরফে চাক্কু হারুন (৩৫)। দিলাওয়ার শ্রমিক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি সিলেট সদর উপজেলার পাইকেরগাঁওয়ের লাল মিয়ার ছেলে। হারুন নগরের তালতলা এলাকায় পার্কভিউ মেডিকেলের পেছনের একটি কলোনিতে ভাড়া থাকে। ওসমানীনগর উপজেলার কুড়ুয়ার রাগবপুর গ্রামের মৃত শাহেদ মিয়ার ছেলে । সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের দুজনকে মহানগর বিচারিক হাকিমের আদালতে তোলা হয়।
লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন সরকার বলেন, যে বাসায় ধর্ষণের শিকার নারী ভাড়া থাকেন ওই বাসার নিচতলায় মামলার আসামি দিলাওয়ার হোসেনও ভাড়া থাকেন। দুই পরিবারের শিশুদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে ওই গৃহবধূকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দিলাওয়ার দুই সহযোগীকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। দিলাওয়ার একাই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। হারুন ও জামাল দিলাওয়ারকে ধর্ষণে সহযোগিতা করেছেন। খবর পেয়ে দিলাওয়ার ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২৯ সেপ্টেম্বর এক কিশোরীকে বাসার ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেন এক ছাত্রলীগকর্মী। এ ঘটনায় গত শুক্রবার ছাত্রলীগকর্মী রাকিব হোসাইন নিজুকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন কিশোরীর মা। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে ছাত্রলীগকর্মী নিজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুইজন। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়। পরে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।








