সামনে নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ্য করা হবে না: ওবায়দুল কাদের
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের একেএমএ আউয়াল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। একাদশ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগে বিরাজ করছে গৃহদাহ। নিজ দলেই একাধিক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আউয়ালকে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালকে আগামীতে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে তার আপন ভাই হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে। মালেক পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র ও দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি। বড় ভাই আউয়ালের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে মেয়র মালেক নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন নানাভাবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ হাকিম হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুর রহমান ছগির ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবিএম বায়েজীদ।
ওবায়দুল কাদের পিরোজপুর জেলার নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা একে অন্যের বিরুদ্ধে যে সমালোচনার রাজনীতি করেন, সে পরিমাণ রাজনীতি আমাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে করেন না। আপনাদের একে অন্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা বন্ধ করতে হবে। শৃঙ্খলা বজায়ের রাজনীতি করতে হবে। তা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বৈঠকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতারা সবার কথা শুনেছেন। পরে উভয় পক্ষকে মিলিয়ে দিয়েছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করতে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম হাওলাদার বলেন, ‘পিরোজপুর জেলার সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। জেলার নেতাদের বক্তব্যের পর সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সবাইকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এর মধ্যদিয়ে পিরোজপুরে ঐক্যবদ্ধ হবে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালীও হবে। তবে কার্যকর না হলে আগে যা ছিল রাজনৈতিক পরিবেশ তেমনটাই থাকবে।’
জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আওয়াল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘জেলা নেতাদের মধ্যে থাকা দূরত্ব দূর করা হয়েছে বৈঠক থেকে।’












