ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে কেওডালা সেতু নির্মাণ, লাখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ “চনপাড়া সেতুটির দুরবস্তা দীর্ঘ দিনের। নিচের পিলারের ঢালাই ক্ষয়ে গেছে অনেক বছর আগেই, এখন শুধু রডের উপর দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। তাও আবার বলগেডের ধাক্কায় চারটি পিলারের রড বাঁকা হয়ে গেছে। যেেেকান সময় ভেঙ্গে পরতে পারে। এ দুরবস্থা থেকে জনগনকে বাঁচানোর জন্যই কেওডালা সেতুর টেন্ডার দেয়া হয়। চনপারার এ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ্যাধিক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। মাল ছামানা নিয়ে শ্রমিকদের থাকার ঘরও নির্মান করা হয়। হঠাৎ করেই রাতের আধারে মাল ছামানাসহ ঘর উধাও। কেন কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কেওডালা সেতু হচ্ছে না তা আমাদের জানা নেই।” এমনি করে ক্ষোভের সুরে কথাগুলো বলেন কেওডালা এলাকার আলাউদ্দিন মিয়া।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বালু নদের উপর কেওডালা-ঠুলঠুলিয়া সেতুর ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে নির্মাণকাজ। জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পেলে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে, অত্যাবশ্যকীয় বহুলকাঙ্খিত এ সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে, যা দীর্ঘায়িত করতে পারে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্ব¡তত্ত্বাবধানে ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২৫.৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৪ মিটার প্রস্থ, উচ্চতা ১২ মিটারের এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল। ২০২৭ সালের ২৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জীবন দাসী সরকার বলেন, আমার ৪৪ শতাংশ জমির মাঝখান দিয়ে ব্রিজ নেয়া হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। ক্ষতিপূরণের কোন টাকা বুঝে পাইনি।তাই সেতুর কাজ বন্ধের আবেদন করেছি।
এলাকাবাসীরা বলেন, আমরা অভাগা, যেদিকে যাই, সেদিকেই আটকে যায়। আমাগো কপালই খারাপ। মামুন মিয়া বলেন, কোন অদৃশ্য শক্তির কারনে কায়েতপাড়া ইউনিয়নে কোন উন্নয়ণ কাজ হচ্ছে না। নগর পাড়া ব্রিজের ৭০ শতাংশ কাজ সর্ম্পূন হলেও দুই যুগেও কেন এ সেতু হচ্ছে না কারো বোধগম্য নয়। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. গোলজার হোসেন বলেন, চনপাড়া সেতুটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন এ দায় কে নিবে। কথা ছিল কেওডালা ব্রিজ করে এটা ভেঙ্গে ফেলা হবে। তা আর হল না। কথায় বলে না “অভাগা যেদিকে যায় , নদী সেখানে শুকিয়ে যায়”। আমাদের কায়েতপাড়াবাসী অভাগা।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নান্দনিক এ সেতুর ওয়াক ওয়ে ৮ ফুট। নদীর মাঝে ২ টি ও পাড়ে ২৩ টি স্পেন রয়েছে। ২২ টি পিয়ার ও ২ টি এপার্টমেন্ট রয়েছে। দুই পাশে এপ্রোচ সড়ক রয়েছে ৪শ’ ফুট। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে সেল কেভিএল ইউসিসি জেবি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মো: মোস্তফা মিয়া বলেন, আমরা কাজ করার জন্য প্রস্তুত। অর্ডার পেলেই কাজ শুরু করব। নির্মান সামগ্রি রাখার ও লোকজন থাকার ঘরও তৈরি করেছিলাম। অধিগ্রহন জটিলতার মামলার কারনে বন্ধ হয়ে যায় কাজ।
নির্মাণাধীন এই সেতুটি বালু নদের দুই প্রান্তে কেওডালা ও ঠুলঠুলিয়াকে সংযুক্ত করবে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকা-রূপগঞ্জূ উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হবে। স্থানীয়দের মতে, এর ফলে আড়াইহাজার, নরসিংদীসহ আশেপাশের এলাকার ঢাকায় প্রবেশের পথ প্রায় ৫০ কিলোমিটার কমে আসবে।
এই বিষয়ে এলজিইডির প্রকৌশলী সফিউল আলম জানান,সেতুর কাজ আমরা শুরু করেছিলাম। জমি অধিগ্রহন জনিত জটিলতায় আপাতত কাজ বন্ধ থাকলেও, খুব দ্রুতই কাজ আরম্ভ হবে আশা করছি। ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন,ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আমরা বলতে পারবো না। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। জমি অধিগ্রহণের জটিলতার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ই বলতে পারবে।
এই বিষয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদ হাসান সিদ্দিকি বলেন, সংশয়ের কিছুই নেই। আমরা প্রতিনিয়তই কাজ করছি। ওখানে (বালু নদের সেতু প্রান্তে) কিছু জায়গা নদীর রয়েছে, যে-কারণে অধিগ্রহণের কাজ কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সেখান থেকে একটা সিদ্ধান্ত আসলেই আমরা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা শেষ করে স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধান করবো। যারা যারাই ক্ষতিগ্রস্ত সকলেই ক্ষতিপূরণ পাবেন।##













