রূপগঞ্জে এখনও শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ প্রকৃতিতে আশিন মাস শেষের দিকে| শরতও বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে| তবু মাঠে মাঠে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল| ইটের খাঁচায় বন্দী ইট-পাথরের রাজধানী ঢাকায় কাশফুলের স্নিগ্ধ ছোঁয়া পেতে অনেকেই ছুটে যান রূপগঞ্জের জলশিরির বালুর মাঠ, নগর পাড়া বিলের ধারে, নদীর চরাঞ্চলে| বিকেলের রোদ পড়তেই কাশবনের সাদা ছাতার নিচে জমাট বাঁধে দর্শনার্থীদের ভিড়| তরুণ-তরুণীদের আড্ডা আর শাড়ির আঁচলে কাশফুলের আলতো ছোঁয়া| সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ ˆতরি হয়| নীল আকাশের নিচে সাদা কাশফুল যখন বাতাসের দোলায় দুলতে থাকে, তখন মনে হয় শ্বেতবসনা একঝাঁক নৃত্যশিল্পী নৃত্য করছে|
পালকের মতো নরম ও ধবধবে সাদা রঙের কাশফুল| এখনও বাতাতে উড়ে বেড়াচ্ছে কাশফুলের পালক| এই কাশফুলের উপলদ্ধির মধ্যেই বাঁজতে শুরু হয় ঢাকের বাদ্যি| জানান দেয় আসছেন দুর্গা| কারণ, উচ্ছ্বল এই ঋতুর সঙ্গেই আসে সনাতন ধর্মাবল¤^ীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’|
নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে| তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়| নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে|
জলশিরি বালুর মাঠে কাশ ফুলের মেলায় মিলিত হয় প্রেমিক-প্রেমিকার আনন্দ মেলা| নিজেরদের ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় বের করে অনেকেই কিছুক্ষণের জন্য ঘুরতে বের হন| এতে নিজেদের মধ্যে একটু প্রশান্তি কাজ করে এমনটাই জানিয়েছেন জায়হানা, রিপা, নিতু, ইশা,হাসনা, লিজা,রাবেয়ারা| শুধু এরা নয় এমন অনেক পরিবার আছে যারা তাদের অবসর সময়টাকে উপভোগ করার জন্য একটু ঘুরে বেড়িয়েছেন|
মঙ্গলবার বিকেলে সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন আখি আক্তার নামে এক আমেরিকান প্রবাসী| দেশে এসেই সন্তান নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পরেন| তিনি জানান, আমরা বর্তমানে যান্ত্রিক হয়ে গেছি| আনন্দ-বিনোদন ভুলে যাচ্ছি| তাই সন্তানের মনকে প্রফুল্ল করার জন্য একটু বেরিয়েছি|
আরেক দর্শনার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘শরত এলে কাশবনে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা হয় প্রতিবছরই| বলা যায়, বিয়ের পর গত ১০ বছর ধরেই এই ঋতুতে আমি কোনো না কোনো কাশবনে ঘুরতে যাই| কিন্তু, ছোটবেলায় দেখতাম ভাদ্রের শুরুতেই চরজুড়ে ধবধবে সাদা কাশের দোলা| এখন আশ্বিন ঘনিয়ে এলেও কাশবনে সেই পূর্ণতা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে| তবুও শান্তি যে, দেখা মিলছে| যেভাবে আবাসন গড়ে উঠছে, হয়তো একটা সময় আর দেখাই পাব না কাশবনের|’
কাশফুলের বিশাল সমারোহে প্রানবন্ত ঘুরতে ও উচ্ছাস করতে দেখা গেছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা ইসলাম-কে| তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, শরৎকাল ও কাশফুল সম্পর্কে আমরা বইতে পড়েছি| তাই বাস্তবে দেখার জন্য আজ বাবা-মার সাথে ঘুরতে বেড়িয়েছি| বাবা’র যখন সময় হয়, তখনই আমরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে চলে আসি| আজ কাশফুলের মাঠে ঘুরতে খুব ভাল লাগছে|
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা খানম বলেন, কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে| যেমন- পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ ˆতরি করে পান করলে পাথর দূর হয়| কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়|##












