সবকিছুই আবার আগের মত হবে
মনিরুল ইসলাম:
এক মিনিট চোখ বন্ধ করে ভাবুন। কথাগুলো কি অদ্ভুত ভাবে আমাদের বর্তমান অবস্থার সাথে মিলে যায়, তাই না। বিশেষ প্রেক্ষাপটে এই কথাগুলো নাইজেরীয় শহর Lagos সম্পর্কে বলা হয়েছিলো। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে Lagos শহরে Ebola রোগী পাওয়া এবং এটি যাতে নাইজেরীয়ায় Pandemic নাহয় সেজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৯৩ দিন ধরে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে সফল হয়। সেই সত্য ঘটনার প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে নির্মিত (২০১৬) 93 Days মুভির অপেনিং স্পিচটা শেয়ার করলাম।
সত্যিই ঢাকা শহরটা কেমন বদলে গেল। চেনা মানুষগুলো মুখোশের আড়ালে। কেউ কাউকে আর নিরাপদ মনে করছে না। বিশ্বাস করা যাচ্ছে না নিজের হাতকেই। মনে হচ্ছে এই হাত যেকোন মূহূর্তে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, করোনা ভাইরাসকে চোখ, নাক কিংবা মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেবে। হাতের মোবাইল, চোখের চশমা, পরনের কাপড় কোনটাকেই আর নিরাপদ মনে হয় না, মনে অদৃশ্য শত্রুর সহযোগী। বাসায় কলিংবেলের শব্দে আতঙ্কিত হই এই বুঝি কোন ভাইরাস বহনকারী বাসায় এলো।
সকালে বিছানা ছাড়ার পর পর্দা সরিয়ে ফ্লাইওভারের ট্রাফিক দেখতাম। ওয়ার্কিং ডে গুলোতে ফ্লাইওভারের কোন কোন পাশে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যেতো সকালে। যেহেতু অভ্যাসটা বজায় আছে সেহেতু এখনও তাই করি, কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেছে। গাড়িবিহীন ফ্লাইওভার দেখে বুকের ভেতর কেমন মোচড় দেয়, মনে হয়, সবাই শহর ছেড়ে চলে গেছে। চাকুরীজনিত কারনে শহরে বের হলে মনে হয় ভুতুড়ে নগরী, যদিও গলিগুলোর চিত্র ভিন্ন। মাঝে মাঝে মনে ঢাকা শহর আর আগের মত হবে না, আবার সেই চিরচেনা যানজট, জনজট দেখা যাবে না।
কিন্তু না, আমি বিশ্বাস করি,
It is not the end of the world.
সবকিছুই আবার আগের মত হবে। কোটি মানুষের কোলাহলে মুখরিত হবে এই দুকোটি মানুষের শহর। আবার শোনা যাবে রাস্তায় গাড়ির হর্ণ, কালো ধুয়া, যানবাহনের ঠোকাঠুকি, তাই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, হাতাহাতি, রিক্সার টুনটুন শব্দ, এ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের সাইরেন। আমি নিশ্চিত করেই জানি, শপিং মলগুলো আবার আলোকোজ্জ্বল হবে, সিনেমা হল, খাবারের দোকান, ফুটপাতে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি, ভিক্ষুকের বাড়িয়ে দেওয়া হাত-সব আবার শুরু হবে। আমি জানি, জুম্মার নামাজে মসজিদ ছাড়িয়ে রাস্তায় আবারও জামাত হবে, মন্দিরে ভক্ত পূজারীর ভিড় হবে, গীর্জায় প্রার্থনা হবে, সাড়ম্বরে বিজু উৎসব, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত বরন কিংবা নবান্নের উৎসব হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র শিক্ষকের পদচারণা হবে।
আমি এও জানি, ঢাকা শহরের এই চিত্র সকলেই দেখব কিংবা দেখবেন তার কিন্তু কোন গ্যারান্টি নাই। মহামারী করোনা অনেকের প্রান কেড়ে নেবে যদি না আমরা সতর্ক হই। ইতোমধ্যে, অনেকটা সময় আমরা নষ্ট করে ফেলেছি। তবে এখন ও অল্প কিছুদিন আমাদের হাতে আছে, আসুন কাজে লাগাই। ঔষধ কিংবা ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত বের হয় নাই, তবে আমি আশাবাদী খুব তাড়াতাড়ি তা বের হবে এবং করোনা শুধুমাত্র দু’দিনের জ্বরে পরিণত হবে। তবে সেই সুদিন না আশা পর্যন্ত সাবধানতা, সচেতনতা, সতর্কতাই সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়। তাই আসুন
### ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি;
### WHO এবং IEDCR এর পরামর্শ মেনে চলি।
কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলামের ফেইসবুক পেইজ থেকে নেয়া












