কারওয়ান বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ফুটপাথ ও সড়কের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ছাড়া খিলক্ষেতেও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ডিএনসিসি। পুনঃদখল ঠেকাতে কারওয়ান বাজারে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য জায়গা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র।
অভিযানে প্রায় ৩০০ অস্থায়ী দোকান, শেড, ফুটপাথের ওপর নির্মিত স্থাপনা ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম এবং সাজিদ আনোয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় হোটেল, চায়ের দোকান, বিভিন্ন খাবারের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। রাস্তা-ফুটপাথে বাণিজ্য না করার জন্য বার বার সতর্ক করা হলেও বহাল তবিয়তে ছিলেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। অভিযানে তেজগাঁও থানার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় শ্রমিক লীগের অস্থায়ী কার্যালয়, কৃষক লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেললাইনের পাশের ফলের আড়ত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পর পুনঃদখল ঠেকাতে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলরকে সভাপতি করে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সেই কমিটিতে থাকবেন বাজার কমিটির সভাপতি, স্থানীয় পুলিশ প্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ও সিটি করপোরেশনের একজন প্রতিনিধি। অভিযানের বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাথ তো দখল হয়েছেই, এখন রাস্তার মধ্যে অবৈধ দখল চলে এসেছে। রাস্তা-ফুটপাথ দখল করে কোনো বাণিজ্য করতে দেব না।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফার্মগেট থেকে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ হয়ে রেলগেটের পাশ দিয়ে কারওয়ান বাজারের ভিতর দিয়ে বাইপাস সড়কটি উন্মুক্ত করা হবে। এ সড়ক ব্যবহার করে মানুষ ফার্মগেট থেকে পেট্রোবাংলা হয়ে এফডিসির পাশ দিয়ে হাতিরঝিল যেতে পারবে। তিনি আরও বলেন, দখল উচ্ছেদের পর আবারও দখল হয়ে যায়। তাই এখানে একটি জায়গা আমরা পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য দেব। পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই এ এলাকার দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশও দীর্ঘদিন ধরে এখানে ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য একটি জায়গা চাচ্ছে। আমরা জায়গা চূড়ান্ত করেছি, কিছু দিনের মধ্যেই পুলিশকে দেওয়া হবে।
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কারওয়ান বাজারে আমাদের প্রায় ২৩ বিঘা জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে ৩-৪ বিঘা জায়গা অবৈধ দখলে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার বলেন, যতবার দখল হবে ততবারই উচ্ছেদ হবে। আর এখানে আগে নোটিস দেওয়ার বিষয় না।
তারা অবৈধভাবে দখল করেছে, সেটা তো আমাদের জানিয়ে করেনি। কাজেই এ অজুহাত দেখালে চলবে না। এ ছাড়া খিলক্ষেতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হামিদ মিয়া এবং জুলকার নাইনের নেতৃত্বে সড়ক ও ফুটপাথ থেকে ছয় শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।








