বিরামপুরে ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পায়ে শিকল বেঁধে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন,মোহতামিম গ্রেফতার
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে ত্বালিমউদ্দীন ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে ধানক্ষেত থেকে শিশু শিক্ষার্থী মো. মারুফ হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শিশুটিকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়।
নির্যাতিত শিশু মারুফ হোসেন পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর এলাকার মো. মাছুম মিয়ার ছেলে। গ্রেফতার মোহতামিম লুৎফর রহমান জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার রুদ্রানী (মণ্ডলপাড়া) গ্রামের সাইফুর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিওড় ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে ত্বালিমউদ্দীন ইসলামিয়া মাদ্রাসায় মারুফ হোসেন গত ১ মাস যাবত লেখাপড়া করছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মাদ্রাসার মোহতামিম লুৎফর রহমান তার অফিস কক্ষে দুই পায়ে লোহার শিকল লাগিয়ে তালাবদ্ধ করে লাঠি দিয়ে হাত, মাথা, পিঠসহ শারীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে এবং শিশুটির দুই পায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। অমানুষিক নির্যাতনের ফলে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে মাদ্রাসার মোহতামিম অফিস কক্ষের বাইরে যায়।
সন্ধ্যার দিকে শিশুটি কৌশলে অফিস থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের তৈয়বপুর চৌধুরীপাড়ায় ধানক্ষেতের মধ্যে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দুই পায়ে শিকল বাঁধা ও মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে দেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার বাবার হেফাজতে দেয়।
পুলিশের হাতে আটক হওয়া মাদ্রাসার মোহতামিম মো.লুৎফর রহমান বলেন, শিশুটির মা বলেছিল যে- পড়া না পারলে বা বেয়াদবি করলে শাসন করতে। আমি এভাবে শিশুটিকে শাসন করে ভুল করেছি।
বিরামপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মনির যুগান্তরকে বলেন, ধানক্ষেতে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় একটি শিশু পড়ে আছে- এমন খবরে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মারুফ হোসেনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার বাবা মাছুম মিয়ার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। শিশুটির বাবা শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে রাতেই ওই মাদ্রাসার মোহতামিম লুৎফর রহমানকে আটক করে বুধবার দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।








