চোখ মেলেই দেখেন হাতটা নেই
হাসপাতালে রাজীবের মামা মোহাম্মদ জাহিদ গতকাল দুপুরে বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারসহ সবার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। সুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রী যেন রাজীবকে একটি চাকরি দেন এমন আবেদন করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসির বাসটি পেরিয়ে যাওয়ার বা ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিক ঘেঁষে পড়ে। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিন জন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সেই হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি।
চিকিৎসা ব্যয় দিতে হবে বাস মালিকদের : রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে রাজীব হোসেনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত। গতকাল এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশে চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনারসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।
দুই বাসচালক গ্রেফতার : গতকাল এক প্রেস বার্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগ জানিয়েছে, রাজীব হোসেনের হাত হারানোর ঘটনায় উভয় বাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন বাসের চালক মো. খোরশেদ।












