আমাকে মাইনাস করা যাবে না

এপ্রিল ০৯ ২০১৮, ০০:১৩

Spread the love
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, ‘মান্নান সাহেব এবং আমি ছাড়াও গাজীপুরে বিএনপির অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। বর্তমান মেয়রের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। এ অবস্থায় দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করতে পারি। আমি মানুষের সঙ্গে আছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। গাজীপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে আমাকে কেউ মাইনাস করতে পারবে না। আমাকে মাইনাস করলে কৃপণতা করা হবে।’ গতকাল গাজীপুরে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান মেয়রের ছেলের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘গ্রামে একটি কথা আছে- কেউ দুধ বেচে গাঁজা খায়, আবার কেউ গাঁজা বেচে দুধ খায়। এখন দলই ঠিক করবে কোনটা করবে।’ তিনি বলেন, ‘কারও ছেলে হওয়াটা বিএনপির মতো দলের গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হতে পারে না।’ হাসান উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষ, সবসময় এলাকায় থাকি। আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেছি, আমি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের সমস্যা দেখে সমাধান ও সহযোগিতা করতে পারি। দল যদি মনে করে বা সিদ্ধান্ত নেয়- তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করব।’ হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। সরকারি দলের রোষানলে পড়ে গাজীপুরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মামলায় জর্জরিত। গ্রেফতার হয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী এখনো কারাগারে রয়েছেন। তারপরও আমি বলব, সময় মতো বিএনপি নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে কাজ করবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা একটা পোস্টার লাগাতে পারি না। এর চেয়ে দুঃখের আর কী থাকতে পারে। এজন্যই কি স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম? সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার মুখে যেটা বলে, সেটা যদি সত্যিকারভাবে বাস্তবায়ন করে তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু সরকার তো বাস্তবে তা করে না।’ গাজীপুরের সমস্যা ও সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে অনেক সমস্যা। জলাবদ্ধতা, রাস্তা ও যানজট বিশাল সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি। এ জন্য নেতৃত্বকে কিছুটা কঠোর হতে হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকতে হবে।’

 তিনি বলেন, ‘আমি টঙ্গী পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ১৯৭৪ সালে ৩১৩ টাকা নিয়ে টঙ্গী পৌরসভার কাজ শুরু করি। ৫ জন ছিল কর্মচারী। তখন রাস্তা করার কথা বললে মানুষ বলত চেয়ারম্যান কী করছে! রাস্তা বড় করার দরকার কী। তারপরও রাস্তা করেছি। কিন্তু এখন মানুষ বলে, হাসান সরকার যা করেছে তারপর আর কোথাও রাস্তা বড় হয়নি। আমাদের ছোট ভাই আজমত উল্লাহ ১৮-২০ বছর চেয়ারম্যান ছিল, কিন্তু কোনো উন্নয়ন দেখাতে পারবে না। আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই প্রশাসনের সহযোগিতা চাইব। উন্নয়নের জন্য যদি সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাই তাহলে সবাইকে অবহিত করে পদ থেকে পদত্যাগ করব। কাজ করতে না পারলে ক্ষমতা ধরে রেখে কোনো লাভ নেই। নির্বাচিত হয়ে যদি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে না পারি, তাহলে পদত্যাগ করাই উত্তম।’

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও