লম্পট শহীদুল্লাহ’র পাতানো ফাঁদের শিকার রুপা
বরিশাল: অনুরোধ করে মান্না পাহাড়িকে ধমকানোর জন্য। জেসমিনের অনুরোধে শহীদুল্লাহ’র সাজানো ফাদে পাড়া দেয় রূপ। মান্নাকে হুমকি দেয় মোবাইল ফোনে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হুমকির কথাগুলো মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে মান্না। পরে শহীদুল্লাহর নির্দেশে কোতয়ালী থানায় রূপার বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী দায়ের করে মান্না পাহাড়ি। রূপার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতেই হামলার নাটক কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপাকে একা করে রাখাই ছিল প্যানেল মেয়র কেএম শহীদুল্লাহ’র প্রধান লক্ষ্য। তাই সিটি কর্পোরেশনের কোন পুরুষ কাউন্সিলর রূপার সাথে কথা বললে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বদনাম রটাতেন শহীদুল্লাহ। তাই মান সম্মানের ভয়ে কেউ রূপার সাথে কথা বলতেন না। এছাড়া রূপার বন্ধুদের নানাভাবে হুমকি দিতেন প্যানেল মেয়র। যাতে রূপা একা হয়ে যায় এবং শহীদুল্লাহ’র কু-প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এরই মধ্যে রূপার বিদেশ যাওয়ার খবরে আকাশ ভেঙ্গে পরে লম্পট শহীদুল্লাহ’র মাথায়। তাই রূপার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে হামলার নাটক সাজায় শহীদুল্লাহ নিজেই। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কাউন্সিলর রূপার বড় বোন আমেরিকা প্রবাসী। বোন আর বোনের ছেলে-মেয়েকে দেখতে গত বছরের শেষের দিকে তার আমেরিকা যাওয়ার কথা। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগার করছিলেন তিনি। বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেন কাউন্সিলর রূপা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহকে জানিয়ে দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা বেগম। এখবর শোনার পরপরই চিন্তায় পরে যায় শহীদুল্লাহ। তার ধারনা রূপা আমেরিকা গেলে, সেখানে কোন ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়ে যেতে পারে। তাই রূপার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে নগরীর পুলিশ লাইন রোডে অবস্থিত নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩ তলায় বৈঠক বসায় শহীদুল্লাহ। বৈঠকে অংশ নেয় চতুর সাপুড়ে মান্না পাহাড়ি, তার স্ত্রী কাজল বেগম ও মাদক ব্যবসায়ী রাজা। রাজা মান্নাকে কুপিয়ে জখম করবে এই প্রস্তাব দেন শহীদুল্লাহ। তবে এই প্রস্তাবে শুরুতে বেকে বসে মান্না পাহাড়ি। কিন্তু এ কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা দেয়ার কথা বললে রাজি হয়ে যায় মান্না। ওই রাতেই তাদের ৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেয় শহীদুল্লাহ। পরিকল্পনা অনুযায়ী পর দিন সন্ধ্যায় মান্নার উপর হামলা চালায় রাজা। হামলার পর রাজা নিরাপদেই পালিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মামলা করা হয় রাজা সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। হুকুমের আসামী করা হয় ইসরাত আমান রূপাকে। শহীদুল্লাহ’র টাকার কাছে হেরে যায় রূপা। স্ত্রীকে দিয়ে স্বার্থ হাসিল শহীদুল্লাহ’র প্রধান ব্যবসা মাত্র ১০ বছর আগেও আজকের মত অর্থ সম্পদের মালিক ছিলেন না প্যানেল মেয়র কেএম শহীদুল্লাহ ওরফে লেটকু শহীদ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামান্য মালির ছেলে শহীদ নিজ স্ত্রীকে ব্যবহার করে হয়েছে কোটিপতি। স্থানীয় সূত্রে জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক পিয়নের মেয়েকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতেই ঘর জামাই থাকতে শুরু করে লেটকু শহীদ। এক পর্যায়ে শুরু করে ছোট ছোট ঠিকাদারি কাজ। কিন্তু কাজে অনিয়ম দুর্নীতির কারনে বিল আটকে দেয় দপ্তরের বড় বাবুরা। কাজের বিল ছাড় করতে নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করে শহীদুল্লাহ। তাকে পাঠিয়ে দিত বড় বাবুদের কাছে। বড় বাবুরাও খুশি হয়ে বিল ছেড়ে দিত। এরপর থেকে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেয়া কিংবা বিলের টাকা উত্তোলন; সব জায়গাই নিজের স্ত্রীকে পাঠাতেন শহীদুল্লাহ। এমনকি রাজনৈতিক স্বার্থ হাছিল করতেও স্ত্রীকে ব্যবহার করতো জঘন্য চরিত্রের এই প্যানেল মেয়র। স্ত্রী এর প্রতিবাদ করলে তার উপর চালানো হত অমানসিক নির্যাতন। কিন্তু স্ত্রী শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যাওয়ায় রূপাকে দিয়ে ওই কাজ চালিয়ে নিতে চায় সে। তাই যে কোন মূল্যে রূপাকে হাছিল করতে উঠে পড়ে লেগেছে শহীদুল্লাহ। নারী লোভী শহীদুল্লাহ নারীলোভী প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ’র কু-কর্মের কথা সবার জানা। গভীর রাতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়ায় সে। সুযোগ বুঝে হানা দেয় বিভিন্ন বসতঘরে। তার লালসা থেকে রেহাই পায়নি শিশু কন্যা থেকে বৃদ্ধ নারী পর্যন্ত। বর্তমানে এক মিস্ত্রীর স্ত্রীর সাথে রয়েছে তার অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক। এঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই মিস্ত্রীকে প্রান নাশে হুমকি দেয় শহীদুল্লাহ। তাই জীবন রক্ষায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই মিস্ত্রী। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র জানায়, যেখানে নারী সেখানেই চরিত্রহীন শহীদুল্লাহ’র পদচারনা। সে প্রতিদিন মদ পান করে, এক এক রাতে এক এক নারীর সাথে রাত কাটায়। অনেকই তাকে বরিশালের বাইরে বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সাথে অন্তঃরঙ্গ অবস্থায় দেখেছে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, এক নারী কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ’র বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ওই সময় তার সাথে শহীদুল্লাহ’র অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। শহীদুল্লাহ’র আর্শিবাদে একাধিকবার গর্ভবতীয় হয়েছিল সে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ ওরফে লেটকু শহীদ সবচেয়ে বেশি রঙ্গলীলায় লিপ্ত ছিল নারী অপর এক নারী কাউন্সিলরের সাথে। বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে বরিশালের বাইরে ঘুরতে যেতেন শহীদুল্লাহ। সিটি কর্পোরেশনের মালিকাধীন রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফ্লাটে তাদের অনেকটা উলঙ্গ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন। তাদের ভালবাসার ফল বিথাও যায়নি। ওই নারী কাউন্সিলরের ছেলেটি শহীদুল্লাহ’র ভালবাসার ফসল বলে লোক মুখে গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি ওই নারী কাউন্সিলরের বোনের মেয়ের সাথেও রয়েছে শহীদুল্লাহ’র অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক। নগরীর কাউনিয়া এলাকা বাসিন্দা ওই মেয়ে বর্তমানে পড়াশুনা করছে ঢাকার একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে। তার পড়শুনার সম্পর্ক ব্যয় বহন করছে শহীদুল্লাহ। এজন্য তার সাথে রাত কাটাতে হয়। ওই মেয়ে শহীদুল্লাহ’র একমাত্র মেয়ে সামান্তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিল। কিন্তু পিতার সাথে বান্ধবীর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি ঢাকায় বসবাসরত সামান্তা।












