শিবির নাম করে চার ছাত্রকে বেধড়ক পেটালো ছাত্রলীগ

অক্টোবর ১৯ ২০১৮, ১৪:০০

Spread the love

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিবির সন্দেহে চার শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুন্নুজান হলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

পরে তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘণ্টাব্যাপী মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনা চলাকালে মতিহার হল ও মমতাজ উদ্দীন কলা ভবনের সামনে বিকট শব্দে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আটককৃতরা হলেন- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লিটন, দ্বিতীয় বর্ষের মুহাইমিন, সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নাসিম হাসান ও আরবী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরুখ। এদের মধ্যে লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারধরে তার পা রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং দুই হাতে গুরুতর জখম হয়। তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আটক ছাত্ররা দাবি করেছে- তারা শিবিরের সঙ্গে যুক্ত নয়।
এদিকে, আটককৃতরা বঙ্গবন্ধু হলে থাকাকালীন মতিহার হল ও মমতাজ উদ্দীন ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী দল বেধেঁ মন্নুজান হলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে যায়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদের পর চারজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। প্রমাণ না পাওয়ায় বাকি নয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, শিবিরের ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে শোডাউন দিচ্ছে জানতে পেরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অভিযান চালায়। এ সময় মন্নুজান হলের সামনে পৌঁছালে কয়েকজনকে একসঙ্গে দেখে সন্দেহ হয়। এ সময় কয়েকজন আমাদের দেখে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আমরা তাদের আটক করি। তাদের মধ্যে চারজন শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

আটকের পর পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় লিটন ও মুহাইমিনের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে বিকেলে ঘুরতে এসেছিলাম। এ সময় সন্দেহবশত আমাদের আটক করা হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিনা কারণে আমাদের খুব মারধর করেছে। আমরা কোন ধরনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আশরাফ উজ জামান বলেন, আমি যখন হলে আসি তখন আটককৃতসহ সবাইকে হল থেকে বের হয়ে যেতে দেখি। বহিরাগতদের আটক করে হলে নিয়ে এসে এভাবে আটকে রাখা আমার পছন্দ নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে আটক করেছে। বিষয়টি শোনার পর আমি সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। চারজনকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে নগরীর মতিহার থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চারজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাদেরকে এখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও