শীত আসছে তাই রূপগঞ্জে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

নভেম্বর ১১ ২০২৫, ২১:৫৯

Spread the love

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ সকাল-সন্ধ্যার হালকা ঠান্ডা হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা। শীত এখনো জেঁকে না বসলেও খেজুর রস সংগ্রহ করতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন গাছিরা। এখন তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খেজুর গাছ পরিষ্কার ও ছাঁটাইয়ের কাজে। শীতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে খেজুর রসের।

গাছি মিজানুর বলেন, ‘লাভ প্রায় নেই বললেই চলে। আগে ছুরি পাওয়া যেত ৩০০/৪০০ টাকায়, এখন দাম হাজার/পনেরশ টাকা। হাঁড়ি ৩০/৪০ টাকায় কিনতাম। এখন কিনতে হয় ১০০/১৫০ টাকায়।
উপজেলার বরুনা, হরিনা, বাঘবেড়, টিনর, কেড়াব, মাসাব, কুশাব, কান্দাপাড়া, মুশরী, টান মুশরী, বিরাব, দক্ষিণবাঘ এলাকায় খেজুরের রস আহরণ শুরু করেছেন গাছিরা এবং তারা নিয়মিতভাবে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ খেজুরগাছ। গাছিরা প্রথমে গাছের মাথা থেকে ডালপালা কেটে পরিষ্কার করেন। পরে নির্দিষ্ট স্থান হালকা করে কেটে পরিষ্কার করেন তারা। এর কিছুদিন বিরতির পর আবার কয়েক দফায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছেঁটে ফেলা হয় গাছের ছাল। গাছ কাটার এ কাজে গাছিরা ছ্যান (স্থানীয় ভাষায়) নামে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেন। গাছ কাটার সময় খেজুর গাছের সঙ্গে নিজেদের শক্তভাবে দড়ি দিয়ে বেঁধে নেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকে বাঁশের তৈরি পাত্র। যার ভেতর থাকে গাছ পরিষ্কার করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। গাছ তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর থেকেই মূলত রস নামানোর পর্বটা শুরু হয়।

এরপর গাছের মাথার নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের বানানো দু’টি চোখা খুঁটি পোতা হয়। সঙ্গে দড়ি বা সুতা বেঁধে মাটির পাত্র ঝুলে দেয়া হয়। পাত্রের ভেতর রস পড়ার জন্য বাঁশের তৈরি নালার মতো ভিন্ন একটি খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয় সেই গাছের সঙ্গে। এভাবেই গাছির নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে খেজুর রস।

উপজেলার গাছি রফিক, রশিদ, মাসুদ জানান, শীতে গ্রামে গ্রামে চলে খেজুর রসের পায়েস, পিঠা-পুলি তৈরির ধুম। মেয়ে জামাই ও স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে বাড়ি বাড়ি চলে শীতের বাহারি পিঠা উৎসব।

গাছিরা জানান, একটি সময় এখানে বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ ছিল। মানুষ সিংহভাগ খেজুর গাছ কেটে ফেলেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজারের মতো খেজুর গাছ রয়েছে। তবে কালের আবর্তে খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা জানান, সরকারি প্রকল্পের আওতায় গাছিদের মাঝে হাঁড়ি-ছুরি বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তাদের আধুনিক চুলা, গাছে ওঠার সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে পারি, তাহলে ওই ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।’##

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও