নগরপাড়া বাজার সংলগ্ন বালুর সড়কে চলে সকাল বিকাল মাছের মেলা

নভেম্বর ২৮ ২০২৫, ১২:৫৬

Spread the love

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ#  মঙ্গলবারের কথা, তখনো ভালো করে সকালের আলো ফোটেনি, ঘুমিয়ে আছে পাড়া। হালকা ভাঙা মেঘের ভেতর থেকে অনেক দূরে সূর্য একটু একটু করে জাগছে। পথের দুই পাশের গ্রামগুলো ঘুমিয়ে আছে তখনো। শুধু বালুর সড়কের মাথায় অল্পকিছু মানুষের দেখা পাওয়া যায়। তাঁরা সবাই মৎস্য ব্যবসায়ী। তাঁরা জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে দূরের শহরে যাবেন, কেউ যাবেন গ্রামের দিকে। এ এক অন্য রকম সময়।

এক দিকে সকাল হয়। পুবের আকাশে সূর্য ওঠে। আর অন্য দিকে চলে মানুষের স্রোত। কারণ নগরপাড়া বাজার সংলগ্ন বালুর সড়কে বসেছে মাছের মেলা। এখানে পাওয়া যায় পুকুর ও নদীর মিঠা পানিতে বেড়ে ওঠা ছোট-বড় নানা রকমের তরতাজা মাছ। সুস্বাদু মাছই এই অস্থায়ী হাটের মূল আকর্ষণ। লোকজন আসছে, দরদাম করে মাছ কিনছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ উপজেলার নগরপাড়া এলাকায় বসা মেলায় এই দৃশ্য দেখা গেছে।

সকালবেলার কয়েক ঘণ্টার হাটে তখন চিংড়ি, পুঁটি, টেংরা, কই, শিং, মাগুর এসব মাছ উঠেছে। ডালার মধ্যে মাছগুলো তখনো তরতাজা, নড়ছে, লাফাচ্ছে। এই হাটে পাইকারি ক্রেতাই বেশি। এরা এই হাট থেকে মাছ কিনে কেউ বড় কোনো শহরে নিয়ে যান। কেউ গ্রামের দিকে ফেরি করে এই মাছ বিক্রি করেন। ক্রেতাদের কাছে এখানকার মাছের চাহিদা বেশি।

সারা বর্ষা কাল জুরেই থাকে এ মেলা। তবে এ সময়টাতেও সকাল বিকাল পাওয়া যায় বিভিন্ন জাতে মাছ। আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে জেলেরা পুকুর বিল সেচে মাছ নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজনেরা কিনে। শহরের লোকেরাও গাড়ী থামিয়ে মাছ কিনে নিয়ে যায়। এই এলাকার যে মেয়েগুলো এখন দূরের কোনো গায়ের গৃহবধূ, তাঁরা বাবার বাড়ি নায়র আসেন। সঙ্গে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আসেন। নিমন্ত্রণ করা হয়েছে আত্মীয়স্বজনকে। মাছ ভাজা হয়। নানা পদের তরকারি রান্না করা হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মজা করে খান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে দলে দলে লোকজন মাছ কিনতে আসছে। সবাই সাধ্যমতো মাছ কিনে বাড়ি ফিরছে। সবার হাতেই একটি করে মাছের ব্যাগ। যাদের হাতে ব্যাগ নেই, তাদের হাতে ঝুলছে দেখার মতো বড়সড় মাছ।

মাছ ব্যবসায়ী নজরুল মিয়া বলেন, ‘প্রত্যেক দিন সকাল পাঁচটার সময় আইয়া (এসে) ইছা (চিংড়ি) মাছ কিনি (ক্রয় করি)। বেশি কিনি ইছা মাছই। তবে পুটি, ট্যাংরা ছোট মাছ যা পাই তাই কিনি। সুন্দর সুন্দর মাছ আছে।’ আশিক মিয়া বলেন, ‘দুইজন মাইনসে (মানুষে)১০-১২ হাজার টাকার একখান নাও খাটায়, জাল খাটায়। ইছা মাছ ধরলে এক হাজার, ৮০০ টাকা পায় (পাচ্ছে)। অন্য কিছু মারলে (অন্য জাতের ছোট মাছ ধরলে) ২০০-৩০০ টাকা পায়। এর লাগি বেশি ইছা মাছ মারে (ধরে), কোনোরকম পেট বাচার।’
প্রায় ১৫ বছর ধরে সকাল বিকেল এই হাট বসছে। সকাল পাঁচ-ছয়টা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার আসা শুরু হয়, হাট চলে সকাল প্রায় সকাল নয়টা পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, শুনেছি আমাদের অনেক অফিসাররাও নাকি এখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান। চাষের মাছের যুগে মিঠা পানির মাছ তো পাওয়াই যায় না। দেখি একদিন যাব। বাসার জন্য পছন্দ মত মাছ কিনব।###

এই বিভাগের আরো খবর


আরো সংবাদ ... আরও