আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় তুর্কি স্টলে তরুণদের ভীড়
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ রূপগঞ্জের পূর্বাচলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরে বরাবরের মতই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তুরস্কের স্টলগুলো। শুধু পণ্যই নয়, বরং স্টলগুলোতে থাকা তুর্কি নারীদের আতিথেয়তা ও সাবলীল উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে নজরকাড়া তুর্কি স্টলগুলো। সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী অটোমান আমলের মোজাইক ল্যাম্প, হাতে বোনা কার্পেট, সিরামিক তৈজসপত্র এবং বিশ্বখ্যাত তুর্কি পারফিউম। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্টল কর্মীদের।
তুর্কি স্টলগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা মনে করেন তারা তুরস্কের বিখ্যাত গ্র্যান্ড বাজার এ দাঁড়িয়ে আছেন। স্টলের ছাদে ঝোলানো শত শত হাতে তৈরি মোজাইক গ্লাস ল্যাম্প এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। এই ল্যাম্পগুলো তুরস্কের আনাতোলিয়ান সংস্কৃতির প্রতীক, যা ঘর সাজানোর জন্য বাংলাদেশের সৌখিন ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। মেলায় আসা তুর্কি নারীরা কেবল বিক্রয়কর্মী হিসেবে নন, বরং তারা তুরস্কের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে কাজ করছেন। তারা আগত দর্শনার্থীদের তুর্কি কায়দায় অভিবাদন জানাচ্ছেন। অনেক স্টলে ক্রেতাদের ছোট ছোট কাপে করে ঐতিহ্যবাহী তুর্কি চা বা কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। যদিও অনেকে ইংরেজি বা তুর্কি ভাষায় কথা বলছেন, তবে অনেক প্রতিনিধি ভাঙা ভাঙা বাংলা শিখে নিয়েছেন (যেমন: ‘কেমন আছেন’, ‘ধন্যবাদ’), যা স্থানীয় দর্শনার্থীদের খুব সহজেই কাছে টানছে।
মেলায় আগত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তুর্কি প্রতিনিধিদের সাথে সেলফি তোলার একটি বড় প্রবণতা দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আকার ও কারুকাজভেদে এই ল্যাম্পগুলো ১,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
অটোমান আমলের নকশা করা আংটি, ব্রেসলেট এবং গলার হারের প্রতি নারীদের ব্যাপক আগ্রহ। এগুলো ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সিল্ক এবং পশমের তৈরি অরিজিনাল তুর্কি কার্পেটগুলোর দাম একটু বেশি হলেও এর স্থায়িত্ব ও রাজকীয় লুকের কারণে উচ্চবিত্ত ক্রেতারা এটি কিনছেন। তুরস্কের বিখ্যাত রোজ ওয়াটার ও পারফিউমগুলোর দাম ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে। তুর্কি ও অন্যান্য বিদেশি স্টলে অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে মেলা কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নজরদারি রাখছে। স্টলের আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন যাতে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) এড়িয়ে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে দুপুরের দিকে যাওয়া ভালো।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মায়মুনা ইয়াসমিন মারিয়া বলেন, তুর্কি ল্যাম্পগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, এখানকার পরিবেশটাও তেমনই দারুণ। বাবার সাথে মেলায় ঘুরতে এসে অনেক ভালো লাগছে।
বাহারি রঙের এই আলোকসজ্জার পণ্যগুলো প্রতিটি স্টলের শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে। তুরস্কের অলিভ অয়েল কসমেটিকস এবং পাথরের গহনা নারীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তুর্কি প্রতিনিধিদের বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার এবং তাদের সংস্কৃতির সাথে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
মেলা কর্তৃপক্ষের মতে, শুরুর দিন থেকেই বিদেশি স্টলগুলোতে বিক্রির পরিমাণ আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে তুরস্ক, ইরান ও ভারতের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের চাপ সবচেয়ে বেশি।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিংগেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।













