গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তি,সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট, দাম বেশি হলেও পাওয়া যাচ্ছে না
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জঃ বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে ব্যবহৃত গ্যাসের সংকট দিনকে দিন তীব্রতর হচ্ছে। শীতে গ্যাসের চাপ প্রতি বছরই কমে যায়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সার্ভিস লাইন নির্মাণকাজ এবং দুর্ঘটনায় বিতরণ গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে তো রূপগঞ্জের অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা গ্যাসের অভাবে রান্নাই করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করে জানান, আগে রাতে চুলা সামান্য জ্বললেও এখন সেটিও জ্বলছে না। অন্যদিকে গ্যাসের বিকল্প এলপি সিলিন্ডারের সংকটে আরও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনতে স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতা।
উপজেলার সাওঘাট এলাকার বাসিন্দা নওরিন জাহান বলেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের যে অবস্থা, বিশেষ করে শীত আসার পরই গ্যাস নাই। চুলা জ্বলেই না। সিলিন্ডারেরও সঙ্কট। দাম বেশি চাচ্ছে। তারওপর পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় হোটেলেও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।
হোটেল মালিক সোহেল মিয়া বলেন, রান্না করব কিভাবে? অতিরিক্ত দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছি না। সিএনজি চালক আলেক মিয়া বলেন, পাম্পে গ্যাস নাই। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে হোটেল ও অফিসপাড়ায়ও চলছে চরম ভোগান্তি। বাইরে খাবার খেতে গিয়েও অনেকেই খেতে পারছেন না। আবার গ্যাসের সংকটে ঘুরছে না অনেক গাড়ির চাকাও। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নওশাদ সজিব বলেন, আমি দুপুরের খাবার অফিসে খাই। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে আজ অফিসের ক্যান্টিনেও রান্না হয়নি। বাইরে গিয়ে হোটেলে খাবারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। সিলিন্ডার সংকটে সেখানেও রান্না হয়নি। পরে রুটি কলা খেয়ে কাটিয়েছি।
গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিন বাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতকালীন সময়ে পাইপে পানি প্রবেশ করে। এতে সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জে তিতাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, এখন গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ খুবই কম। যেহেতু গ্যাস সরবরাহে বিদ্যুৎ, সার ও শিল্পকারখানাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আবাসিকে গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি পরে আসে। একে সরবরাহ কম, এর সঙ্গে প্রাধান্য বিবেচনায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়ায় আবাসিকের গ্রাহকরা গ্যাস কম পাচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ না বৃদ্ধি পেলে আবাসিকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে না।
তীব্র গ্যাস সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি মেরামত করতে গিয়ে পানি ঢুকে যায়। এজন্য ডুবুরিরা কাজ করতে পারছিলেন না। এখন পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ মেরামত করতে পেরেছি। মেরামতের জন্য আরও বড় একটি লিক ক্ল্যাম্প নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছি। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস সরবরাহ এখন খুবই কম। খুব দ্রুত গ্যাসের চাপ আরেকটু বাড়িয়ে পরিস্থিতি ভালো করার চেষ্টা করব।
এদিকে গ্যাসের সংকটে সিএনজি গ্যাস স্টেশনগুলোতেও দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকেই স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেছে। গাড়িচালকরা জানান, গ্যাস নিতে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে গাড়ির চাকাও ঘুরছে না।###













