ময়মনসিংহে অলৈাকিক পানি পান করে অসুস্থ কয়েকশ মানুষ!
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে এলাকাবাসী হঠাৎ লক্ষ্য করে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের চেচুয়া বিলের মাঝখানে কচুরিপানা সরে গিয়ে পানি বুদ বুদ করছে। এ দৃশ্য দেখে এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যক্তি একে অলৈাকিক পানি বলে উল্লেখ করে প্রচার করতে থাকলে লাখ লাখ শিশুসহ নারী-পুরুষ বিলের পানি খাওয়া ও গোসল করতে শুরু করে। এ উপলক্ষ্যে কিছু ভণ্ড প্রকৃতির লোক তাদের রোগ-বালাই ভালো হয়েছে বলে ফেইসবুকেও প্রচারণা চালায়। অপরদিকে রোগ-বালাই ভাল হওয়ার আশায় নোংরা-কাঁদাযুক্ত পানি পান ও ঐ পানিতে গোসল করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে কয়েকশ শিশুসহ নারী-পুরুষ।
দিনাজপুরের সাইদুর রহমান তার পঙ্গু ছেলে বিজয়কে নিয়ে এসেছেন আরোগ্য লাভের আশায়। তিনি জানান, তিনি তার ঢাকার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে খবর পেয়ে এখানে এসেছেন। যশোরের মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে খবর পেয়ে এখানে এসেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের চকপাড়ায় সাইকেল, রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোতে করে অথবা পায়ে হেঁটে দলে দলে লোক আসছেন চেঁচুয়া বিলের পানি নিতে। অন্যদিকে, বিলের আসেপাশে গড়ে উঠেছে খালি বোতল বিক্রি করাসহ বিভিন্ন দোকান পাঠ।
শনিবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন নেছা বিউটি, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন ও ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে চেঁচুয়া বিলের পানি, মাটি, কচুরিপানা ব্যাবহার না করার জন্য প্রথমে মাইকে আহ্বান জানান। এতে কাজ না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লাঠিচার্যের আদেশ দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, এটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ময়মনসিংহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে আসা হবে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন জানান,পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ১৪৪ ধারা জারি হতে পারে।












