বরিশাল আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় যারা

শাকিব বিপ্লব ও হাসিবুল ইসলাম, : বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বে কারা, আসছেন এমন প্রশ্নের সুনিশ্চিত কোন উত্তর দলীয় দায়িত্বশীল মহল দিতে পারছে না। অনুমান নির্ভর বলা হচ্ছে- গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের তালিকাসমূহ হিসেবে চূড়ান্ত আলোচনার অগ্রভাগে থাকা বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম। এই প্রথম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চ‚ড়ান্তে দলীয় হাইকমান্ডের সামনে জটিল সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে বর্তমান বরিশাল প্রেক্ষাপট। সদর আসনের এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নেতৃত্বের প্রত্যাশায় দুই মেরুতে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় এই উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারনা পাওয়া গেছে। রোববার বিকেলের আগেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হাইকমান্ড কোন পথে অগ্রসর হয় তা নিয়ে খোদ পদপ্রত্যাশীরা গোলকধাঁধার মাঝে রয়েছেন।এর আগে রোববার সকালে বন্ধবন্ধু উদ্যোনে সম্মেলন শুরু নিয়েও রয়েছে নানা কৌতুহল। সাথে উত্তেজনাকর অপেক্ষাও। বিশেষ করে সভাপতির পদপ্রত্যাশী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীমকে নিয়মানুসারে অনুষ্ঠানের অতিথি করার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। এখন তিনি অনুষ্ঠানস্থলে আসবেন কী আসবেন না তা নিয়েই যেমন কৌতুহল তদরুপ পরিস্থিতিতে উত্তাপ ছড়ায় কী না সে বিষয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার খবর পাওয়া গেছে। তবে সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত উপ-কমিটির দায়িত্বে থাকা বর্তমান নেতৃত্ব আজ শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সফল প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন শেষ করতে তাদের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরলেও গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, মিডিয়াকর্মীদের এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ধারনা দিতে পারেননি বা দেননি। বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়াকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহানগর আ’লীগের বর্তমান সভাপতি গোলাম আব্বাছ চৌধুরী দুলাল। এসময় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও সম্মেলন নিয়ে তথ্য উপাত্ত দিয়ে তাদের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানান দেন।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হল এই প্রথম সম্মেলন নিয়ে নগরীর মূল কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আলোকসজ্জায় সজ্জিত করে বর্ণিল রুপ দিয়েছে। গোটা নগরীজুড়ে সাদিক আব্দুল্লাহ’র ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেলেও অন্য কোন পদপ্রত্যাশীর এই ধরনের প্রতিকী আয়োজন চোখে পড়েনি। খবর পাওয়া গেছে- প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের ছবি সংবলিত বিশালাকারের বিলবোর্ড কয়েকটি স্থানে টাঙানোর পর তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বলা যায় বরিশালে একপেশে পরিস্থিতি রুপ নিয়েছে, সাদিক অনুসারীরাই পুরো মাঠ দখল করে রেখেছে।

কোন কোন সূত্রের অভিমত- অতিথি হিসেবে আগত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে সাদিকের জোরালো অবস্থান এবং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার কৌশল হিসেবে নগরীতে সাদিক অনুসারীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। ফলে এক ধরনের চাপা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বি সভাপতি হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে বিশেষ করে জাহিদ ফারুক শামীম, সাবেক সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ এবং সাধারণ সম্পাদক তালিকায় থাকা আফজালুল করিম, অ্যাডভোকেট আমির উদ্দিন মোহন এবং মাহামুদুল হক খান মামুন এদের কাউকেই মাঠে দেখা যাচ্ছে না। নিশ্চিত হওয়া গেছে- নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলেই তাদের আকাঙ্খা পূরণে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি অনুসারী বেষ্টিত অবস্থায় দফায় দফায় বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে নগরীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে- সভাপতি হিসেবে জাহিদ ফারুক শামীম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ চূড়ান্ত নেতৃত্ব পাচ্ছেন। হাইকমান্ডের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে এই বিষয়টি চূড়ান্ত কী না জানতে যোগাযোগ করা হলে তাদের মন্তব্যও রহস্যঘেরা। সুতরাং বুঝে ওঠা যাচ্ছে না শেষান্তে কাকে কোন পদে বসানো হচ্ছে।

তবে কেন্দ্রীয় আ’লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র যে ধারণা দিয়েছে- তাতে ওই গুঞ্জনের সত্যতা অনেকাংশেই মিলে যায়। এই সূত্রটি সমীকরণের আলোকে বলছে যে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি এবং একপেশে নেতৃত্ব যাতে না যায় সেজন্য শামীম ও সাদিকের সমন্বয় সৃষ্টির উদ্যোগ হিসেবে নয়া কমিটিতে এই দুই নেতাতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য পদে নিয়ে আসার সম্ভবনাই বেশি। এই ধরনের কমিটি গঠন করা হলে উত্তজনা অথবা সংঘাতময় পরিস্থিতি সর্বাপরি বিভাজনের রাজনীতি এড়ানোর কৌশল হিসেবে দলীয় হাইকমান্ড এরুপ পদক্ষেপ নিলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

অপর একটি সূত্র এই ধরনের সমীকরণ নাকচ করে দিতে চায়। বলছে- প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার গুডলিস্ট বিবেচনায় মহানগরের নতুন সভাপতি হিসেবে জাহিদ ফারুক শামীমের সম্ভবনা শতভাগ নিশ্চিত হলেও সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিষয়টি দুদুল্যমান। সমালোচনা ও মাঠ দখলের রাজনীতি বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে এই পদে সদর আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে নিয়ে আসা হতে পারে। সাদিক আব্দুল্লাহ’কে রাখা হতে পারে যুগ্ম সম্পাদকের সারিতে। তদরুপ গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও আফজালুল করিমকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং মাহামুদুল হক খান মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করে এমন একটি কমিটি দাঁড় করনোর ভাবনা-চিন্তার কথা ঢাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

অবশ্য পদপ্রত্যাশীরাও ইতিমধ্যে এমন আভাস পেয়েছেন বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। যার উদাহরণ হিসেবে জাহিদ ফারুক শামীমের বিলবোর্ড ভেঙে ফেলার প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসেন। সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারীরা কোনভাবেই জাহিদ ফারুক শামীমকে সভাপতি হিসেবে মানতে নারাজ। তবে বিলবোর্ড কারা ভেঙেছে এই বিষয়ে পরিস্কার হওয়া যায়নি। এমনকি জাহিদ ফারুক শামীম নিজেও কোন মন্তব্য করতে নারাজ।

এই নেতার ঘনিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে- তিনি সম্মেলনস্থলে আমন্ত্রিত না হলেও উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা থেকে এমন নির্দেশনা রয়েছে। প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে জাহিদ ফারুকও সেখানে সমন্বয় করবেন তা সহজেই অনুমেয়। তাছাড়া সাবেক শিল্পমন্ত্রী দলের উপদেষ্টা মণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য আমির হোসেন আমু সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। সার্বিক বিবেচনায় জাহিদ ফারুক শামীম অনুষ্ঠানস্থল যাচ্ছেন। কিন্তু কী পরিস্থিতি ঘটে তা নিয়ে নতুন নেতৃত্বের চেয়ে আলোচনায় বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

আশ্চর্যের বিষয় হল নানা প্রশ্ন নানা উদ্যোগ দেখা গেলেও এক মাত্র নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ’র পিতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ একেবারেই নিরব। ফলে কে আসছেন নতুন নেতৃত্বে এবং জাহিদ ফারুক শামীম সম্মেলনমুখী হচ্ছেন কী এই দুটি প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালে সম্মেলন শুরু বিকেলে শেষান্তের মাঝেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বরিশাল আ’লীগের কর্মী-সমর্থকদের।







সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জামাল হোসেন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ মোনাজ্জেল হোসেন খান
নির্বাহী সম্পাদক : নাঈম ইসলাম
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৭কে,মেহেরবা প্লাজা ৩৩ তোপাখানা রোড,ঢাকা
ফোনঃ 01947171171
মেইলঃdailyagomoni2018@gmail.com
প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।