মৈত্রী সেতু-১ উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী
সাইফুল ইসলাম ,রামগড় উপজেলা প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু-১ উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে উদ্বোধনে কথা থাকলেও মঙ্গলবার (৯মার্চ) দুপুরে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু-১ এর উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করেন।
ভিডিও কনফারেন্সে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মৈত্রী সেতু-১ উদ্বোধন করায় সীমান্তবর্তী রামগড়ের জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা আশা করছেন এর মাধ্যমে সীমান্তবর্তী রামগড়-সাবরুম এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরী হবে ভাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। সেতুট নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে। আর এই জন্যই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ছাড়াও ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য এই ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৈত্রী সেতু পার্বত্য চট্রগ্রাম, ত্রিপুরা ও আশপাশের জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেথযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি জীবন-জীবিকার উন্নতিতেও বিরাট অবদান রাখবে। এছাড়াও দুদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নেও বিরাট অবদান রাখবে মৈত্রী সেতু-১। রামগড়ে বিশেষ স্থলবন্দর নির্মানের লক্ষে সেতুটি নির্মিত হলেও সেতুটি উদ্বোধন করার পরও সেতুর কার্যক্রমে আরো আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়ে গেছে। স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য জমি অধিগ্রহন করা হলেও এখনও কাজ আরম্ভ করেন নি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নামে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানিশ চন্দ্র আগারভাগ ইনপাকন প্রাইভেট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৮২.৫৭ কোটি রুপি ব্যয়ে রামগড়ের মহামুনিতে ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪.৮০ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করেন। সেতুটিতে ১২টি পিলার ব্যবহার করা হয়েছে এমধ্যে ৮টি বাংলাদেশ সীমান্তে ৪টি ভারত সীমান্তে রয়েছে।











